
বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যার হুমকি, নিরাপত্তা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ডেস্ক রিপোর্টঃ
২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে একটি নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, হামলাকারীরা অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে শুধু মেসি নন, আরও কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়েছেন। তাদের মধ্যে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও ছিলেন।
মেসিকে ঘিরে একাধিক হুমকি
ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কো-অপারেশন সেন্টার (আইপিসিসি) ও এফবিআইয়ের নিরাপত্তা প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেজিয়েকেও তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারের বেশি হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতির কারণে ফ্রান্সে থাকা তার পরিবারের জন্যও পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
৭ জুলাই আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি মেসিকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক হামলার হুমকি দেয়। পোস্টে সে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে মেসিকে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।
এরপর ডালাস বিমানবন্দরে একজন ফোন করে দাবি করে, সে আরও দুজনের সঙ্গে ঘরে তৈরি বিস্ফোরক ও একটি এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য দুই দলের খেলোয়াড় ও পুলিশ সদস্যরা বলে জানালেও সে বিশেষভাবে মেসির নাম উল্লেখ করে।
আরেক ঘটনায় ম্যাচ চলাকালে পুলিশকে ফোন করে স্টেডিয়ামের একটি ময়লার ঝুড়িতে তিনটি বোমা রাখার দাবি করা হয়। এরপর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর ও তাদের হ্যান্ডলাররা স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়া খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন মেসি।
রোনালদোকেও ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী রোনালদোর হোটেলে থাকা নিয়ে তথ্য জানতে চাওয়া এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান।
দুই দিন পর হিউস্টন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে এবং রোনালদোর হোটেল থেকেই তাকে আটক করে।
টরন্টোতেও এক ব্যক্তি রোনালদোর সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সে দাবি করে, শুধু রোনালদোর সঙ্গে ছবি তুলতেই তার কাছে যেতে চেয়েছিল।
মিয়ামিতেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটে। এছাড়া পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ চলাকালে রোনালদোর জার্সি পরা এক দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন।
এমবাপেকেও অনলাইনে হুমকি
ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপেও নিরাপত্তা ও অনলাইন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপেকে লক্ষ্য করে জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়। এছাড়া ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়েতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপের ছবি সংবলিত একটি পুতুল পোড়ানোর ঘটনাও সামনে আসে।
বিশ্বকাপ ঘিরে এসব হুমকি ও নিরাপত্তাঝুঁকি বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্রঃ যুগান্তর