
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাদক বিক্রির অভিযোগ, দারাজের বিরুদ্ধে মামলা
ডেস্ক রিপোর্টঃ
অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। সোমবার রাজধানীর বাড্ডা থানায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।
এর আগে রোববার অভিযান চালিয়ে দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধন এনে সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচাকেও অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের আওতায় এটিই প্রথম মামলা বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আইনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, প্রচার বা লেনদেনের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড ও সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দারাজের পাশাপাশি সন্দেহজনক অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, দারাজের ওয়েবসাইটে ‘সিবিডি অয়েল’ নামে একটি পণ্য বিক্রি হচ্ছিল। বিষয়টি যাচাই করতে নারকোটিক্সের গোয়েন্দা সদস্যরা ওই পণ্য অর্ডার করেন। পণ্য হাতে পাওয়ার পর নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় এতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় গাঁজার সক্রিয় উপাদান টিএইচসি থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
পরে সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনের স্থানে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সংস্থাটির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিবিডি অয়েল ও উৎপাদনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। সেখান থেকেই কারখানার মালিক ও দারাজের সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন জাপানে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে তিনি গাঁজার তরল উপাদান ব্যবহার করে তেল তৈরির কৌশল শেখেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। দেশে ফিরে ঢাকায় সুগন্ধি সাবান তৈরির আড়ালে তিনি ওই ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রঃ যুগান্তর