সবার কথা বলে

বিশ্বকাপের জার্সিতে উজ্জ্বল ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, বৈশ্বিক ক্রীড়া বাজারে বাড়ছে দেশের অবস্থান

0 2

বিশ্বকাপের জার্সিতে উজ্জ্বল ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, বৈশ্বিক ক্রীড়া বাজারে বাড়ছে দেশের অবস্থান

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ফিফা বিশ্বকাপের মূল আসরে বাংলাদেশ জাতীয় দল অংশ নিতে না পারলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে দেশের উপস্থিতি অন্য এক পরিচয়ে ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের ব্যবহৃত জার্সি ও স্পোর্টস অ্যাপারেলের বড় একটি অংশ বাংলাদেশে তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প নতুন স্বীকৃতি পাচ্ছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে এ খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক সরাসরি এ শিল্পে কর্মরত। গত কয়েক বছরে সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি উন্নতমানের স্পোর্টসওয়্যার ও পারফরম্যান্স অ্যাপারেল উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরীফুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পোশাক তৈরিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশে তৈরি জার্সি ব্যবহৃত হওয়া দেশের জন্য গর্বের বিষয়। এতে রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতাও আরও শক্তিশালী হবে।

অ্যাডিডাস, নাইকি, পুমা, হামেল, নিউ ব্যালেন্স, ম্যাক্রন ও ক্যাপেলির মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে স্পোর্টস অ্যাপারেল উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় ফুটবল দল, পেশাদার ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের জার্সি, ট্রেনিং কিট, শর্টস ও জ্যাকেট তৈরি হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিউইয়র্কভিত্তিক ব্র্যান্ড ক্যাপেলি স্পোর্টসের জন্য ঢাকার তুরাগে অবস্থিত গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড (জিএমএ) কেপ ভার্দে জাতীয় দলের অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সি তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি খেলোয়াড়দের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার এবং সমর্থকদের জন্য আরও প্রায় ১৩ হাজার জার্সি বিদেশে রপ্তানি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সির ব্যবহার দেশের উৎপাদন দক্ষতা, মান নিয়ন্ত্রণ ও শিল্প সক্ষমতার আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়াচ্ছে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নতুন রপ্তানি আদেশ পাওয়ার সম্ভাবনাও জোরদার হচ্ছে।

তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, দক্ষ জনশক্তি ও পরিবেশবান্ধব কারখানার কারণে বাংলাদেশ বিশ্ব স্পোর্টস অ্যাপারেল শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হলে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

সূএঃ বাসস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.