
২ কোটি রুপির বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সাই পল্লবী, কারণ কী?
ডেস্ক রিপোর্টঃ
দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবী বরাবরই নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্য, সাদামাটা জীবনযাপন এবং দৃঢ় নীতির জন্য পরিচিত। গ্ল্যামারনির্ভর বিনোদনজগতে কাজ করলেও ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে কখনো আপস করেননি তিনি। সেই নীতির কারণেই ২০১৯ সালে ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনে কাজ করার জন্য পাওয়া প্রায় ২ কোটি রুপির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
সাই পল্লবীর কাছে অর্থ বা জনপ্রিয়তার চেয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নিজের আদর্শ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গায়ের রঙকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত বৈষম্য ও মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া হীনমন্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান থেকেই তিনি ওই বিজ্ঞাপনে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে ‘বলিউড হাঙ্গামা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাই পল্লবী জানান, ত্বকের রঙ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসের সংকট তৈরি হয়, তা তিনি নিজের পরিবার ও আশপাশের মানুষের মধ্যেই দেখেছেন।
বিশেষ করে তার ছোট বোনকে ঘিরে একটি অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বোনের গায়ের রঙ তুলনামূলক চাপা হওয়ায় তাকে প্রায়ই ফল ও সবজি খেতে উৎসাহ দেওয়া হতো। এমনকি এসব খাবার খেলে ত্বক ফর্সা হবে বলেও বলা হতো। বিষয়টি ছোট বোনের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল বলে মনে করেন সাই পল্লবী।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, বোনকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখে তিনি খুব ব্যথিত হয়েছিলেন। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অন্তত নিজের অবস্থান থেকে গায়ের রঙ নিয়ে প্রচলিত এই ধারণার বিরুদ্ধে কথা বলবেন। তার কাছে বড় অঙ্কের অর্থের চেয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ব্যক্তিগত জীবনেও সাই পল্লবী বেশ সাধারণভাবে চলতে পছন্দ করেন। নিয়মিত সৌন্দর্যবর্ধক প্রসাধনী ব্যবহার করেন না এবং মেকআপেও খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই পর্দায় কিংবা বাস্তব জীবনে নিজের ব্রণ বা ত্বকের স্বাভাবিক দাগ আড়াল করার চেষ্টা করেন না।
তার বিশ্বাস, একজন মানুষের উচিত নিজের স্বাভাবিক চেহারা ও ব্যক্তিত্বকে গ্রহণ করা এবং নিজেকে যেমন, তেমনভাবেই ভালোবাসতে শেখা।
তবে সব সময় তিনি এতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। ২০১৫ সালে ‘প্রেমাম’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়জগতে আসার আগে নিজের ব্রণ নিয়ে তিনি বেশ অস্বস্তি ও হীনমন্যতায় ভুগতেন। ব্রণ ঢাকতে নানা ধরনের ক্রিম ব্যবহার করতেন এবং কখনো কখনো বাড়ির বাইরে যেতেও সংকোচ বোধ করতেন।
তার মনে হতো, মানুষ কথা বলার সময় তার চোখের দিকে নয়, বরং মুখের ব্রণের দিকেই তাকিয়ে আছে। কিন্তু ‘প্রেমাম’ মুক্তির পর দর্শকদের ভালোবাসা তার সেই ভাবনাকে বদলে দেয়।
মেকআপ ছাড়া এবং মুখে ব্রণ থাকা অবস্থাতেই দর্শক তাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তার মধ্যে এমন একজনকে খুঁজে পায়, যিনি প্রমাণ করেছেন—গায়ের রঙ বা ত্বকের কোনো সমস্যা মানুষের স্বপ্ন ও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।
দর্শকদের এই গ্রহণযোগ্যতা সাই পল্লবীকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তিনি মনে করেন, যারা তার স্বাভাবিক চেহারাকে ভালোবেসে তাকে গ্রহণ করেছেন, ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়ে তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে আপস করা ঠিক হবে না।
তার মতে, ফর্সা হওয়ার প্রচার মানুষের মনে নিজের গায়ের রঙ নিয়ে সন্দেহ ও অসন্তুষ্টি তৈরি করতে পারে। এতে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে শরীর ও চেহারা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা বা বডি ইমেজের সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই বড় অঙ্কের পারিশ্রমিকের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাখ্যান করেন।
এদিকে, সাই পল্লবীকে শিগগিরই পরিচালক নিতেশ তিওয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ: পার্ট ১’-এ সীতার চরিত্রে দেখা যাবে। সিনেমাটি চলতি বছরের ৮ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
পর্দায় তার নতুন চরিত্র নিয়ে যেমন দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে, তেমনি বাস্তব জীবনে নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধে অটল থাকার কারণে তিনি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।
সূত্রঃ যুগান্তর