
হামলার পর কঠিন সময়ের কথা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা বাঁধনের
ডেস্ক রিপোর্টঃ
ইতালির ভেনিসে হামলার ঘটনার পর নিজের জীবনের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। একই সঙ্গে সেই সময়ে পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান এই অভিনেত্রী।
পোস্টে বাঁধন বলেন, জীবনে কঠিন সময় এলে মনে রাখা উচিত—অন্য প্রান্তে হয়তো ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। নিজের দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, এ যাত্রায় তাকে অপমান, হয়রানি ও শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি কাছের মানুষদের কাছ থেকেও কখনো পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি হয়েছে।
তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন বাঁধন। তার মতে, অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই পাওয়া যায় সবচেয়ে বড় সমর্থন।
কঠিন সময়ে সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকার, ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালিয়ান পুলিশ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বাঁধন জানান, যখন তার সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তখন এসব প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের কিছু মানুষ যখন দূরে সরে গিয়েছিল, তখন তারাই হয়ে উঠেছিলেন শক্তি ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।
এ ছাড়া যারা তার খোঁজ নিয়েছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা তাকে সাহস জোগাতে একটি ভালো কথা বলেছেন—সবার প্রতিও হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। পোস্টের শেষদিকে তিনি সবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।’
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে যান বাঁধন। এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভাই ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তার ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর বাঁধনের পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অভিনেত্রীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
সূত্রঃ যুগান্তর