সবার কথা বলে

মানবিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

0 2

মানবিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্টঃ

তরুণদের খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, একটি সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘টাইগার রান ২০২৬’ মিনি ম্যারাথনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে। একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক নাগরিকেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু উপাচার্য বা প্রশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি একজন নাগরিক হিসেবে সবারই দায়িত্ব রয়েছে। এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং কেউ অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ পাবে না।

সকালে ঘুম থেকে উঠে যারা এই ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, এ ধরনের সচেতন ও উদ্যমী তরুণদের হাত ধরেই একটি সুস্থ ও ইতিবাচক সমাজ গড়ে উঠতে পারে।

‘টাইগার রান’ সম্পর্কে আগে স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও অনুষ্ঠানে এসে এর উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব জেনে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের আয়োজন করা যেতে পারে।

তার মতে, এমন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। এটি কেবল একটি দৌড় প্রতিযোগিতা নয়; বরং তরুণদের নৈতিকতা, মানবিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা বিকাশেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সমাজের অবক্ষয় রোধ এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষিত বেকারত্ব কমানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কোনো শিক্ষিত তরুণ-তরুণী যেন বেকার না থাকে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শুধু ডিগ্রিধারী তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও সরকারের অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক প্রায় ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন বলেও জানান তিনি। এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং মানবিক রাষ্ট্র গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন্যপ্রাণীসহ সব জীবের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলতে হবে।

নিজের ফুটবল জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ভোরবেলার অনুশীলনের দিনগুলোর কথা তার মনে পড়ে গেছে। বৃষ্টিভেজা পরিবেশে আয়োজিত এই ম্যারাথন অংশগ্রহণকারীদের জন্য বাড়তি আনন্দ ও ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের দাবির বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠালে তা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করবেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, তরুণদের ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি মানবিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সূত্রঃ বাসস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.