সবার কথা বলে

পচেত্তিনোর সঙ্গে ২০৩০ পর্যন্ত চুক্তি বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

0 1

পচেত্তিনোর সঙ্গে ২০৩০ পর্যন্ত চুক্তি

বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্টঃ

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি করেছে ইউএস সকার। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তার আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

পচেত্তিনোর অধীনে এবারের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল দলটির প্রথম জয়। তবে শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় স্বাগতিক দেশটি।

চুক্তি নবায়নের পর পচেত্তিনো বলেন, গত দুই বছরে ইউএস সকারের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে জাতীয় দলের উন্নয়নের বড় সম্ভাবনা দেখেছেন তিনি। বিশ্বকাপে সমর্থকদের ব্যাপক সাড়া ও ভালোবাসা যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার বিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় দলের পাশাপাশি খেলোয়াড় ও কোচদের উন্নয়ন, যুব ফুটবল এবং দেশের সামগ্রিক ফুটবল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করতে চান তারা। যুক্তরাষ্ট্রের খেলাধুলায় এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখাই তাদের লক্ষ্য, যা শুধু ম্যাচের ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

নতুন চুক্তির আওতায় পচেত্তিনো ও তার কোচিং দল জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম, যুব পর্যায়ের ফুটবল, কোচিং শিক্ষা এবং পেশাদার লিগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে পরামর্শ দেবে। ফুটবলের বিভিন্ন কারিগরি দিক উন্নয়নেও তাদের সম্পৃক্ত রাখা হবে।

খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের কাছে পচেত্তিনো জনপ্রিয় হলেও দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে তার মতবিরোধ দেখা যায়। যাদের আন্তরিকতা ও দলের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল, তাদের বিষয়ে প্রকাশ্যেও অসন্তোষ জানান তিনি। এদের মধ্যে মিলানের মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে নিয়ে তার মন্তব্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিল।

গণমাধ্যমের সঙ্গেও কয়েক দফা মতবিরোধে জড়িয়েছিলেন পচেত্তিনো। জাতীয় দল নিয়ে কাজ করা কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর তার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বে পচেত্তিনোর ফলাফল মোটামুটি ইতিবাচক। তার অধীনে দলটি ১৮ ম্যাচে জয় পেয়েছে, ১২টিতে হেরেছে এবং একটি ম্যাচ ড্র করেছে। যদিও শুরুতে কিছু হতাশাজনক ফলও ছিল। ২০২৫ নেশন্স লিগে চতুর্থ হওয়া এবং গোল্ড কাপের ফাইনালে মেক্সিকোর কাছে হার ছিল উল্লেখযোগ্য।

তবে তার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্মরণীয় সাফল্যও এসেছে। এবারের বিশ্বকাপে শক্তিশালী শুরু করার পাশাপাশি প্রীতি ম্যাচে উরুগুয়েকে ৫-১ গোলে হারিয়ে আলোড়ন তোলে দলটি। ওই জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা হয়।

ঘরের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে কোয়ার্টার ফাইনালে নেওয়াই ছিল পচেত্তিনোর প্রধান লক্ষ্য। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ায় সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তারপরও তার ওপর আস্থা রেখে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে ইউএস সকার।

সূত্রঃ বাসস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.