সবার কথা বলে

ভারত আইনী প্রক্রিয়া ছাড়াই জো’র’পূর্বক পুশইন করছে যা মানবাধিকারের চরম ল’ঙ্ঘ’ন: আতিক আজিজ

0 4

ভারত আইনী প্রক্রিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক পুশইন করছে যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন: আতিক আজিজ।

ডেক্স রিপোর্ট – সংবাদের পাতা:

জাতীয় পরিবেশ মানবাধিকার সোসাইটি ( জাপমাস) এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কবি সাংবাদিক প্রাবন্ধিক গবেষক আতিক আজিজ বলেছেন, কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টার শিকার হয়ে ছয় মাস বয়সি এক শিশুসহ নয়জন টানা প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। শিশুটির সঙ্গে রয়েছে আরও একটি ছোট শিশু।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে জাতিগত বাঙালি, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক বা বহিষ্কার করা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

জাপমাসের চেয়ারম্যান আতিক আজিজ আরো বলেন, রৌমারী সীমান্তের ১০৬০ নম্বর পিলারের কাছে নির্জন স্থানে আটকে থাকা এসব মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি কিংবা স্যানিটেশনের কোনো ব্যবস্থা। তীব্র রোদ ও বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত দিন কাটছে তাদের। মাথার ওপর সামান্য একটি প্লাস্টিকই এখন তাদের একমাত্র আশ্রয়। এখন পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের পুশইন করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করছে না। আবার ফেরতও নিতে চাচ্ছে না। এ ব্যাপারে কোম্পানি পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও মেলেনি কোন সিদ্ধান্ত।

তিনি আরো বলেন, গত রবিবার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি বাধা দিলে তারা শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বহু পরিবার সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছে। চলতি মাসের ১ জুন থেকে বাংলাদেশে দুই শতাধিক মানুষকে ঠেলে দেওয়ার অন্তত ২১টি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব মানুষের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে মার্চের পর তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ৯০ লাখেরও বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপর অনেকের বিরুদ্ধে আটক ও বহিষ্কারের আশঙ্কা তৈরি হয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নাগরিকত্ব যাচাই এবং নাগরিক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আটকা পড়ে মানবিক সংকটে পড়ছেন। যা মানবাধিকার এর চরম লঙ্ঘন।

আতিক আজিজ বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা সীমান্তে ফেলে রাখছে, যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। অবিলম্বে এসব অবৈধ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো মানুষ, তার নাগরিকত্ব যাই হোক না কেন, দুই দেশের সশস্ত্র সীমান্তরক্ষীদের মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য হতে পারে না। ভারতকে এ নির্মম বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নামে মানবিক মর্যাদা , মানবাধিকার যেন আর কখনো ক্ষুন্ন না হয় তা ভারতকে নিশ্চিত করার আহবান জানান জাপমাসের চেয়ারম্যান আতিক আজিজ।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.