সবার কথা বলে

ইরানে খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম

0 4

ইরানে খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম

অনলাইন ডেস্কঃ

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা রোববার তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেষ বিদায়ের দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতায় তাকে শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে লাখো মানুষ জড়ো হন।

১৯৮৯ সাল থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনের বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে ইমামতি করেন প্রখ্যাত শিয়া আলেম জাফর সোবহানি। ৯৭ বছর বয়সী এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব পবিত্র শহর কোমের বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করে আসছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনসমক্ষে আসেননি। জানাজার নামাজেও তিনি অংশ নেননি। তবে প্রয়াত নেতার অন্য তিন ছেলে—মাসুদ, মোস্তফা ও মেইসাম—অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রোববার ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। দিনের শেষভাগে তার মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার রাজধানীব্যাপী শোকযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মরদেহ সেখানে রাখা হয়েছে।

এএফপির সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, সকাল থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স ও আশপাশের সড়ক শোকার্ত মানুষের ঢলে ভরে যায়।

৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি হাতে হাজারো মানুষ জানাজায় যোগ দেন। শোকাহতদের জন্য খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থাও করা হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারাও শেষ শ্রদ্ধা জানান।

ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের ওপর তার কালো পাগড়ি রাখা ছিল। পাশেই ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়। নিহতদের মধ্যে তার এক শিশুনাতনিও ছিল।

কর্তৃপক্ষের আশা, তেহরানে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানগুলোতে এক কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন।

টানা পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই সতর্ক করে জানিয়েছে, যেকোনো সময় আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর আগে জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কঠোর দমন-পীড়নে সেখানে হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। সেই প্রেক্ষাপটে খামেনির শেষকৃত্যে জনসমাগমকে সরকার কতটা জনসমর্থন ধরে রাখতে পেরেছে, সেটিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে দেখা হচ্ছে।

শনিবার দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বিভিন্ন স্থানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, আবেগ ও অশ্রু ইরানি জনগণ এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে খামেনির অবস্থানের সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

তিনি ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুসলিমরা বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা নিপীড়ন ও আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না।

খামেনি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। তার নেতৃত্বে তেহরান বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে এসেছে, যার মধ্যে ফিলিস্তিনের হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ অন্যতম।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শনিবার হামাস ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক করেছে। এছাড়া শেষকৃত্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং হামাসের মিত্র ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সূএঃ বাসস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.