সবার কথা বলে

চার মাস পর আবারও ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু করল বিমান

0 4

চার মাস পর আবারও ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু করল বিমান

অনলাইন ডেস্কঃ

প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর রোববার ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর ফলে যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।

পুনরায় চালু হওয়া প্রথম ফ্লাইট বিজি-২০৮ স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে নির্ধারিত যাত্রাবিরতি শেষে দুপুর দেড়টায় ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম।

ফ্লাইটটি স্বাগত জানাতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

রুটটি পুনরায় চালু উপলক্ষে শনিবার ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার, বিমানের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সংস্থাটির কর্মকর্তা, পাইলট, কেবিন ক্রু এবং ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিরা, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের মানুষ, এই রুট পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ২৯ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রুটটি পুনরায় চালুর দাবিতে স্মারকলিপি দেন হুমায়ুন কবির। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে ম্যানচেস্টার রুট পুনরায় চালু করা হবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে রুটটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন হুমায়ুন কবির।

তিনি এর আগে গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি ছিল সরাসরি ম্যানচেস্টার-সিলেট ফ্লাইট পুনরায় চালু করা। এই সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের ভোগান্তি অনেক বেড়ে যায়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় যাত্রীদের লন্ডন হয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হতে হয়েছে। এতে তাদের ভ্রমণের সময়, ব্যয় এবং দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

হুমায়ুন কবির আরও জানান, শুরু থেকেই তিনি এই রুট বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোর্ড সদস্য ড. খলিলুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠকেই তিনি রুটটি পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি কেবল একটি বিমানসেবা নয়; বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাদের পরিবার, সমাজ এবং দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের মাধ্যম। তাই যেকোনো মূল্যে এ সেবা চালু রাখা প্রয়োজন।

প্রাথমিক পর্যায়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দিয়ে প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শনিবার দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এসব ফ্লাইট সিলেট হয়ে ঢাকা ও ম্যানচেস্টারের মধ্যে যাত্রী পরিবহন করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সীমিতসংখ্যক ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ হজ ফ্লাইটে ব্যবহারের প্রয়োজন হওয়ায় গত ১ মার্চ থেকে ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তখন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছিল, সীমিত বহর নিয়ে শুধু ম্যানচেস্টার রুট পরিচালনা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ছিল না। কারণ বোয়িং ৭৮৭ ও ৭৭৭ উড়োজাহাজগুলো একই সময়ে হজ, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটেও ব্যবহার করতে হচ্ছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট পুনরায় চালু হওয়ায় ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পারিবারিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

সূএঃ বাসস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.