সবার কথা বলে

অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা অনুদান পেলেন চাঁদপুরের ড. আবু আলী সিনা

0 3

অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা অনুদান পেলেন চাঁদপুরের ড. আবু আলী সিনা

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চাঁদপুরের কৃতী গবেষক ড. আবু আলী সিনা অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম সম্মানজনক ও প্রতিযোগিতামূলক অনুদান ‘ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (এনএইচএমআরসি) ইনভেস্টিগেটর গ্র্যান্ট’ অর্জন করেছেন। তিনি ‘ইমার্জিং লিডারশিপ লেভেল-২’ ক্যাটাগরিতে এই অনুদানের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রায় ১৬ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার সমমূল্যের এই অর্থায়ন ড. সিনার নেতৃত্বাধীন ‘সিনা ল্যাব’-এর ক্যান্সার শনাক্তকরণবিষয়ক গবেষণায় ব্যয় করা হবে। নতুন এই অনুদানের মাধ্যমে ক্যান্সার দ্রুত ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এনএইচএমআরসি অনুদানপ্রাপ্ত গবেষকদের তালিকা প্রকাশ করে। গবেষণাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান, দক্ষ গবেষণা নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সুস্পষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনার ভিত্তিতে গবেষকদের এই অনুদানের জন্য নির্বাচন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞান খাতে এটিকে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা অর্থায়নগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ড. আবু আলী সিনার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায়। তাঁর বাবা শহীদুল্লা মাষ্টার এবং মা সুরাইয়া বেগম। বর্তমানে তিনি স্ত্রী সাবিহা সুলতানা ও ছেলে জাবির ইবনে হাইয়্যানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বসবাস করছেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় কাজ করার আগ্রহ থেকে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

পরে শিক্ষা ছুটি নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণার জন্য যান। পিএইচডি পর্যায় থেকেই ক্যান্সার নিয়ে গবেষণায় যুক্ত হন তিনি। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (ইউএনএসডব্লিউ), সিডনিতে ‘সিনা ল্যাব’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সিনা ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে রক্তভিত্তিক আধুনিক বায়োমার্কার শনাক্তকরণ, ন্যানোপ্রযুক্তিনির্ভর রোগ নির্ণয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তের নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে গবেষণা করা হবে। এসব গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা, যার মাধ্যমে সহজে, দ্রুত এবং অধিক নির্ভুলভাবে ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

ল্যাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অর্থায়ন গবেষণার পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাস্তব চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রয়োগের প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

অনুদান পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে ড. আবু আলী সিনা বলেন, এই স্বীকৃতি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং তাঁর শিক্ষার্থী, সহকর্মী, গবেষণা-সহযোগী, মেন্টর এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এক বিবৃতিতে সিনা ল্যাব কর্তৃপক্ষ জানায়, এই সাফল্য বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, গবেষণা-সহযোগী, মেন্টর এবং শুভানুধ্যায়ীদের দীর্ঘদিনের যৌথ প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। তারা আরও জানায়, ল্যাবের সাবেক পিএইচডি গবেষক ড. তানভীর আহমেদের গবেষণা নতুন অর্থায়ন পাওয়া প্রকল্পটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর অবদানের জন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

গবেষণাগারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এই অর্থায়ন ক্যান্সার শনাক্তকরণ প্রযুক্তিকে আরও উন্নত, কার্যকর ও সহজলভ্য করার গবেষণাকে এগিয়ে নেবে। ভবিষ্যতে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ বাড়তে পারে। এতে রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে ড. আবু আলী সিনার এই অর্জন বাংলাদেশের গবেষকদের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই সাফল্য দেশের তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চমানের গবেষণায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

সূত্রঃ বাসস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.