সবার কথা বলে

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী মিয়ানমার

0 3

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী মিয়ানমার

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দীর্ঘ প্রায় সোয়া এক বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু করার আগ্রহ জানিয়েছে মিয়ানমার। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর বিষয়ে তার দেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য আবার শুরু হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় শুরুতে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে বাণিজ্য কার্যক্রম চালুর বিষয়টিও ভাবা যেতে পারে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য বাড়ানো, আমদানি-রপ্তানির পরিধি সম্প্রসারণ, নৌপথে যোগাযোগ শক্তিশালী করা, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের মধ্যে রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত অঞ্চল বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর সীমান্ত বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার কার্যত সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়। এতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

চলতি বছরের ১ মে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছালেও এরপরও স্বাভাবিক বাণিজ্য কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। বর্তমানে ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি পণ্য আমদানি হচ্ছে না। সীমিত আকারে রাখাইন থেকে কাঠ আনা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ থেকে কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ কিছু ভোগ্যপণ্য মিয়ানমারে পাঠানো হচ্ছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সীমান্ত পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বাণিজ্য, পরিবহণ, বিনিয়োগ এবং সীমান্ত যোগাযোগসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ এবং হিমায়িত খাদ্যসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় পণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচিত হয়। রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে দেওয়া তালিকা যাচাইয়ের কাজ চলছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

জবাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যৌথ কমিটির সভা আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ যুগান্তর 

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.