
মারিবে হুথিদের হামলায় নিহত ১০, ফের সংঘাত ছড়ানোর শঙ্কা
ডেস্ক রিপোর্টঃ
ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মারিব প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় শুক্রবার অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সরকারি বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সূত্র ও এক মন্ত্রী।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইরান-সমর্থিত হুথি এবং সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি গত মাসে ভেঙে যাওয়ার পর মারিবে আবারও সহিংসতা বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরকারি বাহিনীর অন্তত ৫৮ সদস্য নিহত হন।
ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে যেকোনো সময়ের তুলনায় ইয়েমেন এখন বড় ধরনের সংঘাতে ফের জড়িয়ে পড়ার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত থাকার এবং সদিচ্ছার সঙ্গে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইয়েমেনের একটি সামরিক সূত্র জানায়, শুক্রবার মারিবে হুথিদের সর্বশেষ হামলায় সরকারি বাহিনীর আট সদস্য নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ জানান, হুথিরা মারিব শহরের আবাসিক এলাকা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে গোলাবর্ষণ করেছে। এতে অন্তত দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন।
হুথিদের দাবি
হুথিরা জানিয়েছে, তারা মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সাহন আল-জিন সামরিক শিবিরে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনের সামরিক সূত্রের ভাষ্য, মারিবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাতটি একমুখী হামলা চালাতে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করেছে হুথিরা।
সৌদি জোটের কড়া বার্তা
হুথিদের হামলার ঘটনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট নীরব থাকবে না বলে সতর্ক করেছে সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসা এই জোটের কাছে মারিব একটি ‘লাল রেখা’ বা চূড়ান্ত সীমা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, জোট উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে হুথিদের হাতে মারিব প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
মারিব ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও কৌশলগত অঞ্চল। সেখানে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আবারও ব্যাপক আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ বাসস