সবার কথা বলে

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ সৌদি আরবের, প্রতিশোধ স্থগিত ইরানপন্থীদের

0 2

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ সৌদি আরবের, প্রতিশোধ স্থগিত ইরানপন্থীদের

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদিকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে রিয়াদ। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। একই দিনে ইরান-সমর্থিত ইরাকের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে আল-জায়েদির সৌদি আরব সফরের কথা থাকলেও ২৯ জুলাইয়ের হামলার পর তা বাতিল করা হয়। ওই হামলায় পাঁচ ইরানিসহ ২০ জন যোদ্ধা নিহত হন।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া অফিস জানায়, সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান খালিদ বিন আলী আল-হুমাইদান আল-জায়েদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় সৌদি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ আবারও জানানো হয়।

এর আগে সৌদি আরব দাবি করেছিল, দেশটির তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের বাহিনী। এসব হামলার জন্য ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে রিয়াদ। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে হামলা চালায়।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত চলাকালে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় শত শত হামলা চালিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপও বেড়েছে।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী আল-জায়েদি ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে প্রভাবশালী কয়েকটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে তিনি কঠোর বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছেন।

ইরাক সরকার দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন এলাকা ও সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। দুই নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি হামলার জবাব দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানপন্থী কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠনের জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে শুক্রবার জোটটি জানায়, নির্ধারিত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

ইরানঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ও বদর সংগঠনের প্রধান হাদি আল-আমেরির আহ্বানের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভিডিও বার্তায় তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হামলার জবাব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার ‘সম্মানজনক অবস্থানের’ কথাও উল্লেখ করেছে জোটটি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত গোষ্ঠীগুলোকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরস্ত্র হওয়ার সময়সীমা দিয়েছে ইরাক সরকার।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয়ই ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে ইরাক ক্রমেই তাদের পরোক্ষ সংঘাতের অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ফলে দেশটির সরকারগুলোকে দুই শক্তিধর প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হচ্ছে।

সূত্রঃ বাসস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.