সবার কথা বলে

এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

0 8

এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্কঃ

কিলিয়ান এমবাপ্পের দ্বিতীয়ার্ধের পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মরক্কো।

ফিলাডেলফিয়ার তীব্র গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই ফ্রান্সকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে প্যারাগুয়ে। বিশেষ করে এমবাপ্পেকে কার্যকরভাবে আটকে রাখায় ফরাসিরা আক্রমণে স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি। বলের দখল বেশির ভাগ সময় নিজেদের কাছে রাখলেও প্রতিপক্ষের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে বারবার ব্যর্থ হয় তারা।

ম্যাচের ৭০তম মিনিটে ডিসায়ার ডুয়ের দারুণ একক প্রচেষ্টা থেকে আদায় করা পেনাল্টি কাজে লাগান এমবাপ্পে। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে জয়সূচক গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নেন তিনি।

আগের ম্যাচগুলোর মতো এদিন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি দিদিয়ের দেশ্যমের দল। এর পেছনে বড় কারণ ছিল প্যারাগুয়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ। প্রতিপক্ষ ফ্রান্সকে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে দেয়নি। যদিও পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফরাসিদের দখলে এবং প্যারাগুয়ে ৯০ মিনিটে লক্ষ্যভেদী কোনো শটই নিতে পারেনি।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে। ফলে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ১৯ ম্যাচে ১৯, যা মেসির সর্বকালের রেকর্ডের চেয়ে মাত্র একটি কম।

এ জয়ের পর ফ্রান্স বোস্টনে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি নেবে। আগামী বৃহস্পতিবার ফক্সবোরোতে শেষ আটের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা আগের ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের দিন ফিলাডেলফিয়ায় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশাপাশি ঝড়ের আশঙ্কায় চরম আবহাওয়া সতর্কতাও জারি ছিল। তবে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও খেলা নির্বিঘ্নেই শেষ হয়।

এর আগে একই মাঠে গ্রুপ পর্বে ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচটি প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। যদিও এবার এমন কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪১ নম্বরে থাকা প্যারাগুয়ে আগের রাউন্ডে টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় দিয়ে চমক দেখিয়েছিল। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা ফ্রান্সের বিপক্ষেও রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে।

পাঁচজনের রক্ষণভাগ নিয়ে নিচু ব্লকে খেলতে থাকে প্যারাগুয়ে। প্রয়োজন হলে কৌশলী ফাউলের আশ্রয় নিতেও তারা পিছপা হয়নি। এতে এমবাপ্পে বেশ কয়েকবার বিরক্ত হন এবং একপর্যায়ে আন্দ্রেস কুবাসের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

ফ্রান্সের দখলে বল থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি হয়নি। প্রথমার্ধে মানু কোনোয়ের দূরপাল্লার একটি শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। বিরতির পর আরেকটি প্রচেষ্টা গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন।

খেলার গতি বদলাতে দ্বিতীয়ার্ধে ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে ডিসায়ার ডুয়েকে নামান কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। মাঠে নেমেই ডুয়ে আক্রমণে গতি আনেন এবং কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় দিয়েগো গোমেজের ফাউলের শিকার হন।

ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় ঘটনাটি পর্যালোচনা করে উজবেকিস্তানের রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। সেই সুযোগ থেকেই এমবাপ্পে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন।

যোগ করা সময়ে এমবাপ্পে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও একই পর্যায়ে প্যারাগুয়েকে হারাতে ফ্রান্সকে গোল্ডেন গোলের অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সেই আসরেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফরাসিরা।

সূএঃ বাসস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.