
ইবোলার বান্ডিবুগিও ধরন ঠেকাতে মডার্নার টিকার পরীক্ষার অনুমোদন কানাডার
ডেস্ক রিপোর্টঃ
ইবোলা ভাইরাসের বান্ডিবুগিও ধরন প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নার উদ্ভাবিত এমআরএনএভিত্তিক টিকার প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে কানাডা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ফেজ-১ ট্রায়ালের মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য টিকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উপযুক্ত ডোজ নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা। এএফপির মন্ট্রিয়ল প্রতিনিধি এ খবর জানিয়েছে।
পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমে সুস্থ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীকে টিকার একটি ডোজ দেওয়া হবে। এরপর তাদের শরীরে বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা বা অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রাথমিক ফল সন্তোষজনক হলে পরবর্তী ধাপে আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হবে।
মডার্নার এই টিকাটি একই এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি, যা প্রতিষ্ঠানটির কোভিড-১৯ টিকা উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কানাডায় ইবোলায় আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
এদিকে, গত ২০ জুলাই কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) থেকে আসা বিদেশি নাগরিকদের জন্য সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে কানাডা। পাশাপাশি দেশটির ভেতরেই এই টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে মডার্নার সঙ্গে একটি চুক্তিও করেছে সরকার।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে ঘোষিত বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের একাধিক সম্ভাব্য টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিলম্যান ল্যাবরেটরিজের তৈরি ‘আরভিএসভি বান্ডিবুগিও’ টিকাটি বর্তমানে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি আরেকটি পরীক্ষামূলক টিকার প্রথম ডোজ ইতোমধ্যে একজন স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। ওই টিকায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর পরামর্শ অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোরও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান রয়েছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ইবোলার প্রাদুর্ভাবে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্রঃ বাসস