
মশা দমনে নতুন কৌশল, যুক্তরাষ্ট্রে ছাড়া হচ্ছে লাখো পুরুষ মশা
ডেস্ক রিপোর্টঃ
মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে ভিন্নধর্মী এক উদ্যোগ। ওয়াশিংটনের বাসিন্দা টড মন্টগোমারি তার বাড়ির আঙিনায় নিয়মিত শত শত পুরুষ মশা ছেড়ে দিচ্ছেন। উদ্দেশ্য, প্রাকৃতিক উপায়ে মশার সংখ্যা কমানো। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ছাড়া হওয়া এসব পুরুষ মশার শরীরে থাকে ওলবাকিয়া নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া। এ ব্যাকটেরিয়াবাহী পুরুষ মশা ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হলে ডিম ফুটে না। ফলে নতুন মশার জন্ম বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না, তাই এ পদ্ধতিকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ পুরো এলাকায় প্রায় ৬ লাখ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘জ্যাপ মেলস’ নামে পরিচিত এ পদ্ধতি শুধু এশিয়ান টাইগার মশার ক্ষেত্রে কার্যকর, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে।
‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বাড়ছে, ফলে রোগবাহী মশার বিস্তারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বর্তমানে ২৫ জন গ্রাহক এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। তারা ১৬ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি পুরুষ মশা পাচ্ছেন। অনেকের দাবি, এ পদ্ধতি ব্যবহারের পর মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এ ধরনের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় উদাহরণ সিঙ্গাপুরের প্রজেক্ট ওলবাকিয়া। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটির বেশি পুরুষ মশা ছাড়া হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এ পদ্ধতিতে এডিস মশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি ৭০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩ কোটি ২০ লাখ মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
সূত্রঃ বাসস