সবার কথা বলে

লিবিয়ায় তেল সংরক্ষণ ট্যাংকে হামলা, ভয়াবহ আগুন

0 0

লিবিয়ায় তেল সংরক্ষণ ট্যাংকে হামলা,

ভয়াবহ আগুন

ডেস্ক রিপোর্টঃ

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে জাওয়িয়া শহরের একটি বড় পেট্রোল সংরক্ষণ ট্যাংকে হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে আগুনের তীব্রতায় ট্যাংকটি পুরোপুরি ধসে পড়ে। তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, হামলার শিকার ট্যাংকটিতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার পেট্রোল মজুত ছিল। এটি জাওয়িয়া শহরের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগারের অংশ। ওই শোধনাগারে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধন করা সম্ভব।

এনওসি জানায়, ব্রেগা অয়েল কোম্পানির মালিকানাধীন পেট্রোল ট্যাংকটিকে সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলার পর ট্যাংকটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে সেটি সম্পূর্ণ ধসে যায়।

ব্রেগা অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা কাজ করছেন। একই সঙ্গে আশপাশের অন্যান্য ট্যাংকে পানি ছিটিয়ে সেগুলো ঠান্ডা রাখা হচ্ছে, যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

এনওসির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে জাওয়িয়ার বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটছে। সপ্তাহান্তে একটি ন্যাফথা সংরক্ষণ ট্যাংক ও একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টেও দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়।

লিবিয়ার জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার পর এনওসি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে হামলার পেছনের কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

লিবিয়ার পার্লামেন্টের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক কমিটিও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে কমিটি জাওয়িয়া শোধনাগারে হামলাকে ‘অপরাধমূলক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানায়।

আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তেল মজুত রয়েছে লিবিয়ায়। তবে ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে।

ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারটির নেতৃত্বে রয়েছেন জাতিসংঘ-স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবাহ। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের সমর্থিত একটি পৃথক প্রশাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

জাওয়িয়ার হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী দবেইবাহ। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজধানীর কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর ক্ষতি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সূত্রঃ বাসস

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.