
হামলার জেরে সিরিয়ায় কুর্দিদের প্রত্যাবর্তন বন্ধ
ডেস্ক রিপোর্টঃ
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিজ শহরে ফিরতে শুরু করা বাস্তুচ্যুত কুর্দিদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রাস আল-আইনে ফেরার পথে একটি দলের ওপর হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সোমবার এ সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার প্রতিবাদে কুর্দি অধ্যুষিত কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষকে নিয়ে গঠিত প্রথম দলটি রাস আল-আইনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল বলে জানিয়েছেন বাস্তুচ্যুত কুর্দিদের একটি কমিটির সদস্য জাওয়ান ইসো। তার অভিযোগ, পথে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসাকেহ প্রদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর উপপ্রধান মাহমুদ খলিল আলী।
তিনি জানান, ফিরে যাওয়া মানুষের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও প্রত্যাবর্তন শুরু হবে।
২০১৯ সালে তুরস্ক ও তাদের মিত্র সিরীয় যোদ্ধাদের অভিযানে তুরস্ক সীমান্তবর্তী রাস আল-আইনসহ আশপাশের এলাকা কুর্দি নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে যায়। ওই অভিযানের সময় কয়েক লাখ কুর্দি বাস্তুচ্যুত হন। দীর্ঘ সময় পর নিজ এলাকায় ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সোমবার অনেক পরিবার মালপত্র নিয়ে শহরটির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
তবে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কামিশলি ও কোবানেতে বিক্ষোভ শুরু হয়। কোথাও বিক্ষোভকারীরা সরকারি স্থাপনায় ঢোকার চেষ্টা করেন, আবার কোথাও নিরাপত্তা সদর দপ্তরের সামনে থাকা সিরিয়ার পতাকা নামিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোবানেতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের প্রধান মাজলুম আবদি হামলার নিন্দা জানিয়ে কুর্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারি ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠান রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
হাসাকেহের উপ-গভর্নর আহমাদ আল-হিলালি জানিয়েছেন, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। নাগরিক শান্তি বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। প্রায় ১ লাখ মানুষ রাস আল-আইনে ফেরার আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। তবে সাম্প্রতিক হামলার কারণে সেই প্রত্যাবর্তন আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পরও সিরিয়ায় প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত জীবন কাটাচ্ছেন।
সূত্রঃ বাসস