
ইউএই থেকে বেনজীরকে দেশে আনতে প্রক্রিয়া এগোচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্টঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকার। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি জানান, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ইউএইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি আদান-প্রদান হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউএই কর্তৃপক্ষ কিছু নির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছিল। বাংলাদেশ সেসব তথ্য যথাযথভাবে সরবরাহ করেছে। বর্তমানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, ইউএই তাদের নিজস্ব আইন ও নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে রাজধানীতে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি (জিসিএম)’ বাস্তবায়নে প্রণীত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাপ) ২০২৬-২০৩০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছেন, ইউএই থেকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সাবেক পুলিশপ্রধান ইউএইতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন—এমন সংবাদ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টিতে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। তবে সম্পূর্ণ ও যাচাইকৃত তথ্য ছাড়া এ মুহূর্তে অতিরিক্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে ইউএই কর্তৃপক্ষ। পরে গত ১২ জুন আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সাবেক এই পুলিশপ্রধানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন পর্যালোচনা ফোরাম (আইএমআরএফ) ২০২৬-এর ফলাফল নিয়েও আলোচনা হয়। বৈশ্বিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের ভূমিকা ও নেতৃত্বের বিভিন্ন বিষয় সেখানে তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে ন্যাপ ২০২৬-২০৩০ প্রণয়ন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের মাধ্যমে এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সূত্রঃ বাসস